ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জুন, ২০২৬ ১০:০০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দীর্ঘ ১২ বছর পর পরানপুর-বলশিদ-বাদিয়া গ্রামীণ পাকা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, আগের চাইতে সড়ক সরু করার অভিযোগ উঠেছে।
এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়ি চালকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহরাস্তি রেল স্টেশন সংলগ্ন এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালের পরে এই সড়কের সংস্কার কাজ হয়নি।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়। অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় রেল স্টেশন রোড সংলগ্ন পূর্ব থেকে পশ্চিমে এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, এই সড়কটি পূর্বে ১০ফুট প্রস্থ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংস্কার কাজ হচ্ছে সাড়ে ৮ ফুট। এরপর নির্মাণ কাজে পুরোনো ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। কার্পেটিং করার জন্য এনে রাখা হয়েছে বড় সাইজের পাথর। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম কাজ না করে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে করে লোকজন আর প্রতিবাদ করেনি।
আলমগীরসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন জানান, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে তারা সড়কটি সঠিকভাবে নির্মাণ করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে গিয়েছেন। সেখানেও কাজ হয়নি।
এই সড়কে নিয়মিত ইজিবাইক চালান মো. জুবায়ের। তিনি বলেন, সড়কটি সংস্কার করতে গিয়ে অনেক সরু করা হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে পাশাপাশি দুটি অটোরিকশা চলবে না। একটি আসলে আরেকটি আটকে থাকবে। দুর্ঘটনার এবং ভোগান্তি বাড়বে।
এই সড়কের সংস্কার কাজ তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সড়কটি পূর্বে প্রস্থ ছিল ২.৬৬ মিটার। এটি ১৮ ফুট প্রস্থ দিয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। চলমান দুর্ভোগের কারণে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। ওমর ফারুক নামে ঠিকাদার এটির নির্মাণ কাজ করছেন। প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪ লাখ টাকা।
ঠিকাদার ওমর ফারুক কাজের অনিয়ম প্রসঙ্গে বলেন, সিডিউলে যেভাবে কাজের কথা উল্লেখ রয়েছে, আমি সেভাবে কাজ করছি। এর বাইরে কিছু বলতে পারবো না।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য শাহারাস্তি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলামের দপ্তরে গেলে তিনি বক্তব্য দেবেন বলে সোয়া ১ ঘণ্টা কালক্ষেপন করেন। পরে তিনি ঠিকাদার ওমর ফারুককে তার কক্ষে ডাকলেও কাজের অনিয়মের বিষয়ে কোন কথা বলেননি।
তিনি আরও বলেন, সড়কটি সরু হচ্ছে এটি সঠিক নয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি উপরের অংশ প্রশস্ত হয়ে গেছে।