ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

১১ খাতে ৯,৮৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫৭ বার


১১ খাতে ৯,৮৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি নানাবিধ সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।

এর মধ্যে অনেকটা শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করা নতুন সরকারকে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার নীতি গ্রহন করতে হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে সরকারকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে চেষ্টা করছে।

বাজেটের ১১টি খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছে সরকার।

 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে একাধিক খাতে ব্যয় কমানো ও স্থগিতের নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

এর আগেও বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যা এখনও চলমান রয়েছে। 

 

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়াত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক কর্পোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশোধিত বাজেটে কয়েকটি খাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে।

 

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সব ধরনের যানবাহন কেনায় বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।  

পরিপত্রে বলা হয়েছে, আপ্যায়ন ব্যয়ে অব্যয়িত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এই সীমাবদ্ধতার বাইরে থাকবে।  

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এসব খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। এর বেশি ব্যয় করলে অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতে দাবি করা যাবে না।  

সেমিনার ও কনফারেন্স ব্যয়ে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ রাখা হলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।  

এছাড়া ভবন নির্মাণ খাতে ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে।

কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়েও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন বাজেটে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও উন্নয়ন বাজেটে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে।  

এতদিন প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিব একটি নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ পেতেন। এই ঋণের সর্ব্বোচ্চ সীমা ৬০ লাখ টাকা। এই ঋণ গ্রহণ কার্যক্রমকে স্থগিত করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সই করা এ পরিপত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপ মোকাবিলা এবং সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেছেন, ২০২০ সালে করোনাকাল থেকেই প্রতিবছর কৃচ্ছতা কর্মসূচি পালন করে আসছি। প্রতিবছরই এখাত থেকে ৫ হাজার কোটি থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এ বছরও এর আগে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যয় সংকোচন করার জন্য কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছি। এখন আবার নতুন করে আরও কয়েকটি খাত যোগ করা হয়েছে। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে ব্যয় সংকোচনের নতুন নির্দেশানা পরিপালনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমান অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।


   আরও সংবাদ