ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

হুমকির মুখে কোটি টাকার রপ্তানি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২২ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২৫ বার


 হুমকির মুখে কোটি টাকার রপ্তানি

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পান রপ্তানিতে সিন্ডিকেট, স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজির কারণে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এই অনিয়ম বন্ধ ও অবাধ পান রপ্তানি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে ‘কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব’।

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক পত্রে সংগঠনটি জানায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই তারা সৌদি আরবে পান আমদানি করে আসছেন। সৌদি বাজারে বাংলাদেশের গুণগত মানের পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতি’ নামধারী একটি চক্রের কারণে এই খাতটি ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

 

প্রতি ঝুড়িতে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি:

অভিযোগে বলা হয়, উল্লিখিত অসাধু চক্রটি প্রতি পান আমদানির বাস্কেটের (ঝুড়ি) বিপরীতে ৫০০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা দাবি করছে।

এই অন্যায্য চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সাধারণ পান রপ্তানিকারকদের ওপর নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। রপ্তানিকারকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিষয়টি জানালেও কোনো সমাধান হয়নি।

Bittle Leaf

 

আমদানিকারকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই চাঁদাবাজি ও বাধা সৃষ্টি বন্ধ না হলে তারা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ থেকে পান আমদানি বন্ধ করে দেবেন। ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হবে এবং দেশের প্রান্তিক চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

রপ্তানি আয় কমেছে ৩৪.২১ শতাংশ:
সংগঠনটি জানায়, প্রতি চালানে (শিপমেন্টে) নির্দিষ্ট সমিতির প্রশংসাপত্র ছাড়া পানের ‘বিল অব এক্সপোর্ট’ প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে না-জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এমন শর্তের কারণেই অসাধু চক্রটি সুবিধা পাচ্ছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পানের বৈশ্বিক বাজারে।

চিঠিতে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ পান রপ্তানি করে ৩২.৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল। তবে এই সিন্ডিকেটের কারণে পরবর্তী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এই আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়ায় ২১.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পানের রপ্তানি আয় কমেছে ৩৪.২১ শতাংশ।

বর্তমান পরিস্থিতি ও তিন মূল প্রভাব:

১. বৈধ রপ্তানিকারকরা ক্রমাগত হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং পান রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
২. ন্যায্যমূল্য না পেয়ে প্রান্তিক পানের কৃষকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
৩. পান রপ্তানি আয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশোধন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:

জাতীয় স্বার্থে এবং দেশের পান রপ্তানি খাতকে সচল রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিতর্কিত ওই বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে সংশোধন করে 'সমিতির সদস্যপদের বাধ্যবাধকতা' তুলে নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অসাধু চক্রটির সৃষ্টি করা কৃত্রিম বাধা দূর করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে সমিতিটি।

পত্রটিতে আমদানিকারকদের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরবের আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী। অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলে।


   আরও সংবাদ