ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ অগাস্ট, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০৩ বার
ঢাকা: কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে নীতির ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা, অর্থায়নের সুযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা-এই পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (২৯ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি অডিটরিয়ামে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন পিকেএসএফসহ ২২টি ফাউন্ডেশনের ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও সংস্কার-উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিনিয়োগকারীরা যাতে মধ্যমেয়াদে পরিকল্পনা করতে পারেন, সেজন্য নীতির ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিনিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কতটি দপ্তরে যেতে হবে এবং কত দিনে অনুমোদন পাওয়া যাবে—এসব প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন নিশ্চিত করতে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে।
অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালু ও নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
সেপ্টেম্বর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থ পড়ে না থেকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে।
এতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু নয়, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজস্ব নীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থানমুখী ও বিনিয়োগমুখী অর্থায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল দীর্ঘদিন চালু না থাকলেও এখন সেগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ১৮ মাসের মধ্যে এসব অঞ্চলে উৎপাদনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান শর্ত উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা শুধু জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর না রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে নেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে, যাতে তারা শুধু বিদ্যুতের গ্রাহক না থেকে উৎপাদকও হতে পারেন।
সৌরবিদ্যুতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, অতীতে তা অর্জিত হয়নি। তবে গত ছয় মাসে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে। এভাবে এগোলে দুই গিগাওয়াটের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। কৃষি ও গৃহস্থালি খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে শিল্প খাতের জন্যও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিনিয়োগের পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থার কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, দেশের এক প্রান্তে উৎপাদিত পণ্য কত সময়ে অন্য প্রান্তে বা বন্দরে পৌঁছাতে পারছে, তা বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর করতে হবে। ফ্রেট ট্রেনের সক্ষমতা, লোকোমোটিভ ও বগির ঘাটতি এবং বিভিন্ন ধরনের রেলগেজের কারণে পরিবহনব্যবস্থায় কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্রেট ট্রেনের গতি বাড়ানো গেলে পণ্য পরিবহনে সময় কমবে এবং লজিস্টিক ব্যয়ও কমে আসবে। বিনিয়োগ বাড়াতে তাই নিরবচ্ছিন্ন বা ‘সিমলেস’ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশকে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের যে পূর্বাভাস, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের সঙ্গেও তার মিল রয়েছে। ফলে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যটি বাস্তবসম্মত।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ, বন্ধ কলকারখানা, সামাজিক নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক সমতার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের বিভিন্ন মাইলফলক দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষের মধ্যে অর্থনীতি ও পরিবর্তন নিয়ে আস্থা তৈরি হয়েছে।