ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অন্যের বিপদে পাশে থাকার উপকার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬১ বার


অন্যের বিপদে পাশে থাকার উপকার

মানুষের জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন সে সাহায্যের জন্য চিৎকার করে না—তবু তার চোখ, নীরবতা আর ভাঙা কণ্ঠ সব বলে দেয়। ইসলাম ঠিক সেখানেই আমাদের শিক্ষা দেয় যে বিপদগ্রস্ত ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে হবে।

 

এ ধরনের পরিস্থিতিতে মুমিনের করণীয় হলো, যদি কোনো সহযোগিতা করার সামর্থ্য থাকে, তাহলে তাকে সহযোগিতা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এটাই আমাদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ।

 

তিনি তাঁর উম্মতদের শিক্ষা দিয়েছেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ভাইয়ের কোনো উপকার করতে সমর্থ হলে সে যেন তার উপকার করে। (মুসলিম, হাদিস : ৫৬২৪)

এই হাদিস কোনো অতিরিক্ত ইবাদতের আহবান নয়; বরং এটি ঈমানের স্বাভাবিক প্রকাশ।

 

কেননা যে অন্তরে ঈমান বাস করে, সে অন্তর অন্যের কষ্টে নির্বিকার থাকতে পারে না। কারণ বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানো মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।

 

আমরা অনেক সময় উপকারকে শুধু অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অথচ ইসলাম উপকারকে অনেক বিস্তৃত করে দেখেছে। একটি সহানুভূতিশীল কথা, একটি ন্যায্য পরামর্শ, একটি দরজা খুলে দেওয়া কিংবা কারো বোঝা কিছুটা হালকা করে দেওয়া—সবই উপকার। যেকোনোভাবে মানুষের উপকার করা নেক আমলের শামিল।

মুমিনের উচিত, সৎকর্ম ও ন্যায়ের কাজ দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা। তবে কোনো গুনাহের কাছে উপকারের নামে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কোরো।’
(সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২)

মানুষ যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কোনো দুনিয়াবি স্বার্থের পেছনে না পড়ে তার এই আদেশ পালন করত, তাহলে সমাজের চিত্রই পাল্টে যেত। শুধু তা-ই নয়, মানুষের উপকার করলে কল্যাণকামী হলে ঈমানে পূর্ণতা আসে।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি নিজের জন্য যা পছন্দ করে সেটা তার ভাইয়ের জন্যও পছন্দ না করা পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৫)

বোঝা গেল অন্যের কল্যাণ কামনাও ঈমানের অংশ। নিঃস্বার্থভাবে মানুষের উপকার করলে তা কখনো বিফলে যায় না। বরং মহান আল্লাহ তার উত্তম বিনিময় দান করেন। উপকারকারীর জীবনকে সহজ করে দেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে দুনিয়ার বিপদসমূহের মধ্যকার কোনো বিপদ থেকে রক্ষা করবে, এর প্রতিদানে আল্লাহ কিয়ামতের দিনের বিপদসমূহের কোনো বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন গরিব লোকের সঙ্গে (পাওনা আদায়ে) নম্র ব্যবহার করবে, আল্লাহ তার সঙ্গে দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় স্থানে নম্র ব্যবহার করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষত্রুটি গোপন করে রাখবে আল্লাহও তার দোষত্রুটি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য করে, আল্লাহও ততক্ষণ তাঁর বান্দার সাহায্য করেন।
(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)

সুবহানাল্লাহ, আমরা যদি মানুষের পাশে দাঁড়াই, তাহলে মহান আল্লাহ আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। আমরা যদি কারো কষ্ট লাঘব করতে সচেষ্ট হই, তাহলে আল্লাহ আমাদের কষ্টগুলো হালকা করে দেবেন। আর আল্লাহ যার কষ্ট লাঘবের দায়িত্ব নিয়ে নেয়, তার কি কোনো দুশ্চিন্তার কারণ থাকতে পারে? আমরা অনেক ক্ষেত্রে দুনিয়াতে সব প্রতিদান দৃশ্যমান দেখি না কিংবা দৃশ্যমান হলেও আমাদের উদাসীনতার কারণে তা অনুভব করি না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ আমাদের কোনো নেক কাজই বিফলে যেতে দেন না। তিনি মুমিনকে এর সুফল দুনিয়াতে যেমন ভোগ করান, আখিরাতেও বহু গুণে বাড়িয়ে দেন।

মানুষের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণতো হলো, কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে আমলনামার বোঝা নিয়ে দাঁড়ানো। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের পার্থিব বিপদসমূহ থেকে একটি বিপদ দূর করল, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার পারলৌকিক বিপদসমূহ থেকে একটি বিপদ দূর করবেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৫)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মানুষের কঠিন সময়গুলোতে পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক ও মানসিকতা দান করুন। আমিন


   আরও সংবাদ