ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে বার্তা নিয়ে ফিরলেন জেলা প্রশাসকরা

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬ ১০:০৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২৯ বার


জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে বার্তা নিয়ে ফিরলেন জেলা প্রশাসকরা

মাঠপর্যায়ে সিভিল প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকদের নিয়ে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ শেষ হলো বুধবার (৬ মে)। এ সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রীরা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন।

এক্ষেত্রে সরকার থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন তারা।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

 

সম্মেলনে আট বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জেলার ডিসি অংশ নেন। প্রতিদিন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সচিবরা সরকারের দর্শন মাঠ প্রশাসনে বাস্তবায়নে ডিসিদের নির্দেশনা দেন।

 

ডিসি সম্মেলন চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, মতবিনিময় এবং নির্দেশনা নেন।

এছাড়াও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণের সঙ্গে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথে কার্য-অধিবেশনে বসেন ডিসিরা।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে মোট ৩৪টি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ডিসি সম্মেলনে সারা দেশ থেকে ডিসিরা অংশ নেন। মাঠ প্রশাসনের সাথে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম এই ডিসি সম্মেলন। সম্মেলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান ডিসিরা।

সম্মেলনকে সামনে রেখে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা ৪৯৮টি প্রস্তাব করেন। সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মাঠ প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সামনে ডিসিরা নিজেদের অবস্থান, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে মাঠ প্রশাসনে ডিসিদের নির্ভয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাজারদর নিয়ন্ত্রণে আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়াসহ একগুচ্ছ নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ডিসি সম্মেলনের কার্য-অধিবেশনগুলো শেষ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-উপদেষ্টা বা সচিবরা কথা বলেছেন। তারা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং দর্শন বাস্তবায়নে ডিসিদের নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে সুশাসন, দুর্নীতি বিরোধী প্রচার, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সম্মেলনের অনির্ধারিত আলোচনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে বিভিন্ন পর্যায়ে ডিসিরা প্রশাসনিক কাজে স্বাধীনতা চেয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ডিসিরা চান এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তারা আইন ও নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন। সরকারও এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

ডিসি সম্মেলনের শেষ দিন চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাথে ডিসিদের মতবিনিময় হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ডিসিদের নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরপেক্ষ ও জনস্বার্থে কাজ করলে প্রশাসনের পাশে সরকার থাকবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকার যে ইশতেহার প্রণয়ন করেছে, তা এখন আর কোনো দলীয় বিষয় নয়, এটি জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন প্রশাসনের ওপরই বর্তায়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। তাই সরকারি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষ যেন সম্মান, স্বচ্ছতা ও হয়রানিমুক্ত সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সরকার আপনাদের যেকোনো আইনি ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে।


   আরও সংবাদ