স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০২৬ ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার
বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই রোমাঞ্চ, উন্মাদনা আর মাঠের বাইরের হাজারো গল্প। তবে ইরাকের এক ফুটবলারের জন্য এবারের বিশ্বকাপ অভিযানটা শুরু হয়েছিল এক চরম তিক্ত অভিজ্ঞতা দিয়ে।
আমেরিকার মাটিতে পা রাখার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ সাত ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে মাঠের বাইরের সেই মানসিক ধকল মাঠের পারফরম্যান্সে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি।
নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেই গোল করে যেন সেই সব অপমানের মোক্ষম জবাব দিলেন এই ইরাকি তারকা।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় ইরাকের তারকা ফরোয়ার্ড আইমান হুসেইনকে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরাক দলের সঙ্গে পৌঁছানোর পরই তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইরাকি ক্রীড়া কর্মকর্তাদের দাবি, তার মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করা হয়।
দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর অবশেষে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
শুধু আইমান হুসেইনই নন, ইরাক দলের ফটোগ্রাফার তালাল সালাহকেও ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
৩০ বছর বয়সী আইমান হুসেইন ইরাকের অন্যতম বড় তারকা। তার গোলেই দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেয় ইরাক। নরওয়ের বিপক্ষেও দলের একমাত্র গোলটি আসে তার পা থেকেই, যদিও ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
বিশ্বকাপে এবার কঠিন গ্রুপে পড়েছে ইরাক। গ্রুপ ‘আই’এ তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ফ্রান্স, সেনেগাল এবং নরওয়ে। মাঠের বাইরে মার্কিন প্রশাসনের কড়াকড়ি আর মাঠের ভেতর নরওয়ের রক্ষণভাগ দুটিকেই সমানভাবে পরাস্ত করে ফুটবলবিশ্বকে এক অনন্য লড়াইয়ের গল্প শোনালেন এই ইরাকি তারকা।