ঢাকা, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

পাকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬ ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার


 পাকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ

নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে যায় নিগার সুলতানার দল।

সেই ধাক্কা সামলে পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগ্রেসরা।

 

ব্যাটিংয়ে খুব একটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের সামনে ২০ ওভারে মাত্র ১২৩ রানেই থামতে হয় তাদের। কিন্তু ছোট লক্ষ্যও যে লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট হতে পারে, সেটিই প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর চাপ তৈরি করে পাকিস্তানকে ১০০ রানে আটকে দিয়ে ২৩ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

 

এই জয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নিজেদের ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখল টাইগ্রেসরা।

তিন ম্যাচে দুই জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় অবস্থানও শক্ত করেছে তারা। তবে শেষ চারে উঠতে হলে সামনে থাকা দুই কঠিন পরীক্ষা; ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্তত একটি ম্যাচ জিততেই হবে বাংলাদেশকে!

 

সাউদাম্পটনে শনিবার টসে জিতে আগে ব্যাটে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রানের সংগ্রহ গড়ে ঋতু-শারমিনরা। মামুলি লক্ষ্যে খেলতে নেমে জয়ের পথেই ছিল পাকিস্তান। ১১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৯ রান তুলে ফেলেছিল পাকিস্তানি মেয়েরা। সেখান থেকে সানজিদা আক্তার মেঘলা ম্যাচে ফেরান দলকে। এক ওভারে ২ রান খরচায় দুই উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

বাংলাদেশের ওই আঘাতের পর আর কোন জুটিই গড়তে পারেনি পাকিস্তান। নিয়মিত বিরতিতে একের  পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। মেঘলার পর রিতু মনি, রাবেয়া ও নাহিদা আক্তার চাপ বাড়ান। বিশেষ করে ইনিংসের ১৫তম ওভারে রাবেয়া মেডেন উইকেট নিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় পাকিস্তানের মেয়েরা। 

এরপর প্রায় প্রতি ওভারেই উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১০০ রানে থেমে যায় পাকিস্তানের  ইনিংস। ওপেনিং জুটিতে হওয়া মুনিবা আলী ও গুল ফিরোজার ৪৫ বলে ৪৯ রানের জুটির পর অষ্টম উইকেটে হওয়ার নাশরা সিন্ধু ও তাসমিয়া রুবাবার ১৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই দ্বিতীয় সর্বো্চ্চ। পাকিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ রান আসে মুনিবার ব্যাট থেকে। ফিরোজা খেলেন ২৩ রানের ইনিংস।

বাংলাদেশের বোলারর দারুন বোলিং করেছেন। বিশেষ করে স্পিনাররা ছিলেন দুর্দান্ত। ১৮ রানে তিনটি উইকেট নেন নাহিদা। তার সমান ৩টি উইকেট নেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার মেঘলাও। তিনি অবশ্য খরচ করেন ২১ রান। এছাডা রাবেয়া ও রিতু মনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ। মাত্র ১৩ রানে তিন টপ অর্ডারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। দিলারা আক্তার (৫), জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (৭) রানে আউট হন। শারমিন আক্তার রানের খাতা না খুলেই বিদায় নেন। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক নিগার ‍সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। 

কিন্তু ৩৫ রানের জুটি হতেই সোবহানা সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ১৯ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। অধিনায়ক ৩৬ রান করলেও স্লো ব্যাটিং করেছেন। তবে স্বর্ণা আক্তার আগ্রসী ইনিংস খেলতে না পারলে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ রানের কাছাকাছিতেই আটকে থাকতো।  ১৭৭ স্ট্রাইক রেটে স্বর্ণা আক্তারের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে শেষপর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রানের পুঁজি পায় লাল-সবুজ দল। ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন স্বর্ণা। ৪ বলে ৪ রান করে তার সঙ্গে অপরাজিত থাকেন রাবেয়া খান।

পাকিস্তানের হয়ে ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন ফাতিমা সানা। এছাড়া সাদিয়া ইকবাল, তাসমিয়া রুবাব, নাশরা সান্ধু ও তুবা হাসান নেন একটি করে উইকেট শিকার করেন।


   আরও সংবাদ