ঢাকা, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ট্রেজারি বিলের বিশেষ নিলাম

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬ ০৯:২০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


 ট্রেজারি বিলের বিশেষ নিলাম

বিশেষ নিলামের মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস বা ওভারড্রাফট থেকে গৃহীত ঋণের পরিমাণ অনুমোদিত সীমার নিচে নিয়ে আসা হবে।

এ লক্ষ্যে নিয়মিত নিলামের পাশাপাশি এই বিশেষ নিলামের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

 

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 সূত্র জানায়, নিলামে ৩ মাস মেয়াদী একটি ট্রেজারি বিলের বিপরীতে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং ১৪ দিন মেয়াদী অন্য একটি বিলের বিপরীতে ৫ হাজার কোটি টাকা ধারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই টাকা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করা হবে।

 

সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে ট্রেজারি বিল এর 'স্পেশাল অকশন' সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট অর্থায়ন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 প্রস্তাবটিতে অর্থমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

 

এখন অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে সূত্র জানিয়েছে। 

আরও জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারের নিট অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ট্রেজারি বিল, বন্ড ও সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ২৪ কোটি টাকার অর্থায়ন করা হয়েছে। চলতি বছরের ৭ জুন পর্যন্ত সরকারের ঘাটতি অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩৬ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে সরকার। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ওয়েজ অ্যন্ড মিনস বা ওভারড্রাফট এর নির্ধারিত সীমা ২৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ জুন মাসে বাজেট বাস্তবায়নের পরিমাণ অন্য মাসগুলোর চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংক (বাজার ব্যবস্থা) থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করা না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ অর্থবছর শেষে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। 

অনুমোদিত অকশন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসের অবশিষ্ট সময়ে ২ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড নিট ইস্যুর সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদী সুকুক ও ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদী সুকুক ইস্যুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চলতি জুন মাসে বাজেট সাপোর্ট হিসেবে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাওয়া যাবে বলে অর্থ বিভাগ থেকে জানা গেছে।

তারপরেও অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণের পরিমাণ অনুমোদিত সীমার বাইরে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, অর্থায়নের উৎস হিসেবে ট্রেজারি সিকিউরিটিজের নিয়মিত অকশনের পাশাপাশি বিশেষ অকশনের মাধ্যমে বাজার থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস বা ওভারড্রাফট থেকে গৃহীত ঋণের পরিমাণ অনুমোদিত সীমার নিচে নিয়ে আসা প্রয়োজন দেখা দেয়।

সে বিবেচনায় সরকারের নগদ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে, বিশেষ অকশনের মাধ্যমে ৩ মাস মেয়াদী ৫ কোটি কোটি টাকার একটি ট্রেজারি বিল এবং ১৪ দিন মেয়াদী ৫ হাজার কোটি টাকার একটি ট্রেজারি বিল ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মত দেয় অর্থবিভাগ। এর ফলে অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণ অনুমোদিত সীমার মধ্যে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায়, ২০২৬ সালের ১৮ জুন অথবা সুবিধাজনক তারিখে স্পেশাল অকশনের মাধ্যমে ৩ মাস মেয়াদী ৫ হাজার কোটি টাকার একটি ট্রেজারি বিল ও ২৫ জুন অথবা সুবিধাজনক তারিখে ১৪ দিন মেয়াদী ৫ হাজার কোটি টাকার একটি ট্রেজারি বিল বিশেষ নিলামের মাধ্যমে ইস্যু করার প্রস্তাব করা হয়। 
 


   আরও সংবাদ