স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন, ২০২৬ ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার
২০০৫ সালে কার্ডিফে মাশরাফি-আশরাফুলদের বীরত্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটিই ছিল একমাত্র জয়।
এর আগে কিংবা পরে কখনোই অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রায় ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমেই দ্বিতীয় জয় তো বটেই, সিরিজ জিতে ইতিহাস রচনা করেছে মেহেদী হাসান মিরাজরা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। সবমিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
আগের ম্যাচে মাথায় বল লাগায় পর্যবেক্ষণে ছিলেন মিরাজ। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটি তিনি খেলেননি।
ম্যাচ না খেললেও ড্রেসিংরুমে বসে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি উপভোগ করেছেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে এই সিরিজ জয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে মিরাজ বলেন, ‘২০০৫ সালে তাদের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জিতেছিলাম। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারাটা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি অর্জন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রাই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট, আমাদের কন্ডিশন, উইকেট ও খেলোয়াড়দের প্রশংসা করছে।’
নাথান এলিসের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন মিরাজ। তারপরও মাঠ ছাড়েননি তিনি। তার ছক্কাতেই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এরপর হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় মিরাজের অবস্থা। দ্বিতীয় ম্যাচে ঝুঁকি নিয়ে খেলার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘এখন আমি অনেকটাই ভালো অনুভব করছি। আর যে মুহূর্তটার কথা বলছেন, আঘাত পাওয়ার পর ফিজিও, ডাক্তার সবাই চাচ্ছিল আমি মাঠ থেকে বের হয়ে যাই। কিন্তু ওই মুহূর্তে আমি শুধু একটা বিষয়ই চিন্তা করেছিলাম..আমি যদি তখন মাঠ ছেড়ে চলে যাই, তাহলে ম্যাচের গতিপ্রবাহ ঘুরেও যেতে পারে। তাই দলের কথা চিন্তা করেই আমি খেলা চালিয়ে গেছি। যদিও এতে ঝুঁকি ছিল। ডাক্তার পরে আমাকে বলেছেন, এমনকি হাসপাতালে যে ডাক্তার আমাকে দেখেছেন তিনিও বলেছেন, এটা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল। জীবনের চেয়ে বড় কিছু নয়, খেলাটা চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল না।’
রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচে নাহিদ রানাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় শরিফুলকে। সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন শরিফুল, নেন ৬ উইকেট। শরিফুলের বোলিং নিয়ে মিরাজের কণ্ঠে ছিল সন্তুষ্টি, ‘শরিফুল অবশ্যই অনেক ভালো বোলিং করেছে। কারণ এভাবে অন-অফ অবস্থার মধ্যেও পারফর্ম করা একজন খেলোয়াড়ের জন্য খুব কঠিন। কিন্তু সে পারফর্ম করছে। গত সিরিজেও ভালো বোলিং করেছে, আজও করেছে।’
শুধু শরিফুল নয়, পুরো বোলিং ইউনিট নিয়েই কথা বলেছেন তিনি, ‘আমার কাছে মনে হয়, আমাদের বোলিং ইউনিটের সবার মধ্যেই ক্ষুধা আছে। যে যখন সুযোগ পাচ্ছে, সে ফিরে আসার চেষ্টা করছে, দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করছে। এটা দলের জন্য খুব ইতিবাচক একটি দিক এবং ফলাফল আনতেও সাহায্য করছে।’
মিরাজের মতে, এমন বোলিং আক্রমণ থাকলে জেতার সম্ভাবনা তৈরি হয়, ‘এমন বোলিং ইউনিট থাকলে একটি দলের সামনে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জেতার সুযোগ তৈরি হয়, যেটা আমাদের ক্ষেত্রেও হয়েছে। দেখেন, শুরুতে রানা খেলেছে, ভালো বোলিং করেছে। শরিফুল সুযোগ পাচ্ছিল না, কিন্তু সুযোগ পেয়েই সে প্রমাণ করেছে যে সে ভালো জায়গায় বল করতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিতে পারে।’