ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার
বিএনপি ধৈর্য ধরে বসে থাকবে আর একটি পক্ষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব কৃতিত্ব কুক্ষিগত করবে, সেই সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো একটি গোষ্ঠী বা কয়েকজন ব্যক্তির আন্দোলন ছিল না।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছে। তাই ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে এর পুরো কৃতিত্ব কোনো একটি পক্ষের কাছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জাতীয়তাবাদী সাস্টিয়ান সোসাইটি আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, শুধু সভা-সমাবেশ, আলোচনা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।
একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান হলেও ষড়যন্ত্র এখনো রয়েছে। নির্বাচিত সরকারকে কীভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখা যায় এবং নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকারকে হটকারী সিদ্ধান্তে নেওয়া যায়, সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছেন। তাই আমাদের সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরতে হবে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমরা ধৈর্য ধরে বসে থাকব। ভুল তথ্য ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনের পুরো কৃতিত্ব একটি গোষ্ঠী বা কয়েকজন ব্যক্তির কাছে কুক্ষিগত করতে দেওয়া যায় না।’
জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস জনগণের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জুলাই এসেছে। এই আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। অনেক নেতা-কর্মীকে আমরা হারিয়েছি।’
মন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে কারা কী ভূমিকা রেখেছেন, তা তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। ফ্যাসিবাদের হাতে কতজন প্রাণ হারিয়েছেন, পুলিশের নির্যাতনে কতজন নিহত হয়েছেন এবং ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের কী ভূমিকা ছিল, এসব বিষয় সামনে আনা প্রয়োজন।
জুলাই আন্দোলনের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘তুরাব যখন সাংবাদিক হিসেবে আমাদের মিছিলের ছবি ধারণ করছিল, তখন সে আমার ঠিক পেছনে ছিল। সে সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তুরাব নিহত হয়। তুরাব যদি সেদিন আমার সামনে বা পেছনে না থাকত, তাহলে হয়তো আজ আমি অন্যভাবে দাঁড়িয়ে থাকতাম। এই আন্দোলনের এমন অসংখ্য জ্বলন্ত ইতিহাস রয়েছে।’
তিনি বলেন, শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা কয়েকটি ক্যাম্পাস নয়, সারা দেশের মানুষ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিল। সন্তানরা যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন বাবা-মা, ভাই-বোন ও অভিভাবকরাও রাস্তায় নেমেছেন। একপর্যায়ে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
চোখের সামনে ফুলের মতো শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। অবুঝ শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। অথচ তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আমরা দেখতে পাইনি- বলেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি ঠেকাতে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অন্যরা মিথ্যা বললে আমাদেরও একই পথে হাঁটার প্রয়োজন নেই। কুকুর কামড় দিল বলে আমাকেও কামড় দিতে হবে, এটা হতে পারে না। আমরা আমাদের মেধা ও যুক্তি দিয়ে সত্যকে জনগণের সামনে তুলে ধরব। সত্যকে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারলে মিথ্যার ভিত্তি এমনিতেই দুর্বল হয়ে যাবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ভালোবাসেন এবং জনগণের সামনে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চান, তাদের অঙ্গীকার করতে হবে।’
এ জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে সবসময় সময় দিতে হবে এমন নয়। অনেকেই কর্মজীবী। তাই নির্দিষ্ট তারিখে বসে কর্মসূচি ও ওয়ার্ক প্ল্যান তৈরি করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কাজ করে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বক্তারা। তারা বলেন, জুলাই ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত গণঅভ্যুত্থান। তাই এর ইতিহাস বিকৃত করা বা একক কোনো পক্ষের কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে তথ্যভিত্তিক প্রচার এবং সাংগঠনিকভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।