ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৪৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫২ বার
প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিত ফেনী। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই জনপদের লাখো মানুষ পাঠাচ্ছেন কষ্টার্জিত অর্থ। সেই রেমিট্যান্সই বদলে গেছে জেলার চেহারা, গড়ে উঠেছে দালানকোঠা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। আর রমজান ও ঈদ এলে এই অর্থপ্রবাহ যেন পায় নতুন গতি।
হাসি ফোটে স্বজনদের মুখে। তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শঙ্কায় রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা।
আলো ঝলমলে ফেনী শহর, বিপণিবিতানগুলোতে কোলাহল এসব কিছুর নেপথ্যে যাদের অবদান তারা হলেন প্রবাসী। তাদের ঘাম ঝরা কষ্টার্জিত অর্থ হাসি ফোটাচ্ছে দেশে থাকা স্বজনদের মুখে।
ফোনীতে সারা বছর রেমিট্যান্স এলেও ঈদকে ঘিরে তা বেড়ে যায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসীরা পাঠান বাড়তি টাকা। ঈদের পোশাক, জাকাত-ফিতরা, আত্মীয়-স্বজনকে উপহার সবকিছুতেই ভরসা সেই প্রবাসী আয়।
শহরের গার্ডেন সিটিতে ইদ বাজার করতে আসা প্রবাসীর স্ত্রী আফসানা আক্তার জানান, প্রবাসী থেকে কষ্ট করে টাকা পাঠানোর কারণেই সন্তানসহ তার জন্য ঈদ বাজার করতে পারছেন।
তৌফিক নামের প্রবাসীর আরেক সন্তান বলেন, তাঁর বাবাকে সে ধন্যবাদ জানাতে চায়। বাবা টাকা পাঠানোর কারণেই তার মুখে ঈদের হাসি ফুটছে৷
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঈদ বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে প্রবাসী অধ্যুষিত এই জেলার ব্যবসায়ীরা। চিন্তার ভাঁজ প্রবাসীদের স্বজনদের মুখেও৷
শুধু পরিবার নয়, ঈদকেন্দ্রিক এই অর্থপ্রবাহে চাঙা হয় স্থানীয় সামগ্রিক অর্থনীতি। ব্যাংকগুলোতে দেখা গেছে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। চলতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রেমিটেন্স বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছুটা উৎকন্ঠা থাকলেও এবারের ঈদেও রেমিট্যান্স বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসলামী ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যাবস্থাপক শহীদুল আলম বলেন, বছরের মধ্যে রমজান মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে যায়। প্রবাসীরা সবাই চেষ্টা করেই অন্তত এই মাসে অন্য যেকোনো মাস থেকে টাকা একটু করে হলেও বেশি পাঠাতে।
একই ধরনের তথ্য দিলেন, জেলা কর্ম সংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকর্তা দিদার মিয়া। তিনি জানান, ২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ৩৫০৩৪৩ বিদেশ গমনেচ্ছু ছিলেন। রেমিট্যান্স প্রবাহে এই জেলা ষষ্ট অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে শুধু বৈধ চ্যানেলেই ৮৭৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে এই জেলায়।
গেল বছর ঈদের মাস মার্চে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছিল। যা পরের মাস থেকে ১৮ মিলিনয়ন মার্কিন ডলার বেশি। চলতি রমান মাসে এটি আরও বহুগুণে বাড়বে বলে মনে করছে ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন বৈধ চ্যানেলের বাইরে আরো নানা চ্যানেলেও আসে প্রবাসী আয়। যা বৈধ চ্যানেল থেকে কয়েকগুণ বেশি। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসায় সরকারও পাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব।
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে মিলন। কিন্তু প্রবাসীদের জন্য ঈদ মানে দূরদেশে নির্জন কর্মদিবস। তবুও প্রিয়জনের হাসিই তাদের প্রেরণা। তাই বলা যায়,আলো ঝলমলে বাজার আর পরিবারগুলোর হাসির পেছনে জ্বলজ্বল করছে অগণিত প্রবাসীর ঘামঝরা পরিশ্রম।